ফুজিফিল্ম কোম্পানি The Instax Share SP-2 নামক একটি মিনি পকেট প্রিন্টার তৈরি করেছে যা স্মার্টফোন দিয়ে তোলা ছবি সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্ট করতে পারে। ইনস্ট্যান্ট প্রিন্টারটি দেখতে জুস বক্সের মতো। এটি খানিকটা পুরু হলেও অনেক পাতলা। ইনস্ট্যান্ট প্রিন্টারটি ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে মোবাইল থেকে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ছবি প্রিন্ট করতে পারে। ইনস্ট্যান্ট প্রিন্টারটিতে আছে ৩ কালার ওএলইডি প্রিন্টিং মেশিন। ৮০০ x ৬০০ রেজোলিউশান ও ৩২০ ডিপিআই প্রিন্টারটিকে সত্যিই আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রিন্টারটি পিএনজি ও যেপিজি উভয় ফাইলই সাপোর্ট করে। ইনস্ট্যান্ট প্রিন্ট করার জন্য কতগুলো শট আছে তা প্রিন্টারটির উপরে অবস্থিত ১০টি এলইডি ডট এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। এতে আছে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ও মাইক্রো ইউএসবি ক্যাবল। প্রিন্টারটি ১ চার্জে মোট ১০০ বার প্রিন্ট করতে পারে। রিয়েল টাইম ও সোশাল মিডিয়া টেমপ্লেট ব্যবহারের মাধ্যমেও এতে প্রিন্ট করা যায়। ইনস্ট্যান্ট প্রিন্টারটি ১৯৯ ডলার মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৬
রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬
ইলেক্ট্রিক ফোলডিং বাইসাইকেল
চাইনিজ কোম্পানি Xiaomi ও একটি তাইওয়ানিজ কোম্পানির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব শিগ্রী চায়নার বাজারে আসছে ইলেক্ট্রিক ফোলডিং বাইসাইকেল। এই ইলেক্ট্রিক ফোলডিং বাইসাইকেলের নাম হছে Mi QiCycle। ফোলডিং বাইসাইকেলটি কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি এবং এর ওজন ১৪.৫ কেজি। প্রধান বীম ও টায়ার বাদে সাইকেলটির বাকি অংশ ভাঁজ করা যায়। ফোলডিং সাইকেলটি ২৫০ ওয়াট ৩৬ ভল্ট হাই স্পীড ইলেক্ট্রিক মোটর দ্বারা পরিচালিত। এতে আছে টোর্ক-সেন্সিং ক্ষমতা যা ব্যবহারকারীর প্যাডেলিং ও টোর্কের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। সাইকেলের ইলেক্ট্রিক মোটর মোট ২০টি প্যানাসনিক লিথিয়াম-আয়ন ২৯,০০০ মাহ ব্যাটারির সাহায্যে কাজ করে। সাইকেলটি ১ বার চার্জে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তাছাড়া একটি অ্যাপ ব্যবহার করে সাইকেলটি স্মার্টফোনের সাথে সংযোগ সাধন করতে পারে। এই অ্যাপের মাধ্যমে জিপিএস নেভিগেশন ও রিয়েল-টাইম ফিটনেস প্যারামিটার পরিমাপ করা যায়। এই ইলেক্ট্রিক ফোলডিং সাইকেলটির মূল্য ৪৫৫ ডলার।
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০১৬
প্রতিদিন ১টি কাঁচা মরিচের ১৩টি স্বাস্থ্য উপকারিতা
যাদের ভাতের সাথে একটি কাঁচা মরিচ না খেলে চলেই না তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে কাঁচা মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মরিচকে ঝাল বানায় এর বিশেষ উপাদান ক্যাপসাইকিন। কাঁচা মরিচ সাধারণত কাঁচা, রান্না কিংবা বিভিন্ন ভাজিতে দিয়ে খাওয়া হয়। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, আয়রন, পটাশিয়াম এবং খুবই সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট।
ঝাল স্বাদের সব্জিগুলোতে থাকে বিটা ক্যারোটিন ও আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্রিপ্টোক্সানথিন ও লুটেইন জিয়াক্সানথিন ইত্যাদি উপাদান। এই উপাদান গুলো মুখে লালা আনে ফলে খেতে মজা লাগে। এছাড়াও এগুলো ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দেখে নিন কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।
কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতা:
• গরম কালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে।
• প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে যায়।
• নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা কমে যায়।
• কাঁচা মরিচ মেটাবলিসম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে।
• কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেম কে কর্মক্ষম রাখে।
• নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
• কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমায়।
• কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে।
• কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে যা মাড়ি ও চুলের সুরক্ষা করে।
• নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের বিভিন্ন সমস্যা কমে।
• প্রতিদিন খাবার তালিকায় অন্তত একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না।
• কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন সি। তাই যে কোনো ধরণের কাটা-ছেড়া কিংবা ঘা শুকানোর জন্য কাঁচা মরিচ খুবই উপকারী।
• কাঁচা মরিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।
শনিবার, ২১ মে, ২০১৬
বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর
বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যাদুঘর। মূলত ১৯১৩ সালে এটি ঢাকা জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, পরে ১৯৮৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী যাদুঘরটি দেখতে আসে।
বৃহদায়তন ৪ তলা ভবনে শুধু বৃহৎ প্রদর্শনী হলই নয় বরং ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, তিনটি অডিটোরিয়াম, আলোকচিত্র গ্যালারি, অস্থায়ী প্রদর্শনী হল এবং একটি অডিও ভিজুয়াল বিভাগ আছে। চিত্রকলার আকর্ষণীয় সংগ্রহের মধ্যে পর্যটকরা পাবে প্রাচীন নিদর্শনাদি ও শতাব্দীর পুরনো ঐতিহ্য যা বাংলাদেশের সৃষ্টিকে জাগ্রত করে। হস্তনির্মিত কিছু ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির টুকরা, জল রং অঙ্কন, চীনামাটির বাসন, ধাতু কাজ, অস্ত্র ও মধ্যযুগীয় অস্ত্রাগার, কাঠের আসবাবপত্র, জীবাশ্ম ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রদর্শনীতে দেশের ইতিহাসে প্রত্যনুসরণ হয় এবং প্রাচীন জগৎ সম্পর্কে জানা যায়। যাদুঘর কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনেক সেমিনার ও ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে হারিয়ে যাওয়া বিশ্ব সম্পর্কে নানান প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয় এবং সাধারণ জনগণকে অবহিত করা হয়। বাংলদেশ জাতীয় যাদুঘর সত্যিই একটি অসাধারণ আকর্ষণ।
প্রবেশ ফি
বাংলাদেশের নাগরিক ২০ টাকা
সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিক ২০ টাকা
অন্যান্য ১০০ টাকা
প্রবেশের সময়সূচী
এপ্রিল-সেপ্টেম্বর
শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০.৩০ থেকে বিকাল ৫.৩০ পর্যন্ত
শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে ৮টা পর্যন্ত
অক্টোবর থেকে মার্চ
শনিবার থেক বুধবার সকাল ৯.৩০ থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত
শুক্রবার দুপুর ২.৩০ থেকে রাত ৭.৩০ পর্যন্ত
রমযান
শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯.৩০ থেকে দুপুর ৩ টাপর্যন্ত
শুক্রবার, ২০ মে, ২০১৬
নকিয়া ফোন আবার ফিরে আসছে
নকিয়া তবে ফিরেই এলো! এক সময়ে প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করা নকিয়া ঘোষণা করেছে যে, তারা ফোন, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট নিয়ে শীঘ্রিই প্রত্যাবর্তন করছে। আর নিঃসন্দেহে তাদের ফোনগুলি হবে অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট।
ফিনল্যান্ডে এইচএমডি নামে একটি নতুন কোম্পানি গঠিত হয়েছে। প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা হিসেবে কোম্পনিটির দায়িত্ব নিচ্ছেন আর্তো ন্যুমেলা। তিনি পূর্বে নকিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং বর্তমানে মাইক্রোসফট কোম্পানির ফোন ডিভিশনের ব্যবস্থাপনা দেখছেন।
নতুন কোম্পানি এইচএমডি নকিয়াকে নিয়ে আলোচনা করবে এবং এই ব্র্যান্ডটি কেমন করে কী মানে কাজ করবে তা নির্ধারণ করবে যেন তা ক্রেতা সাধারণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ তারা মানসম্মত, সুন্দর ডিজাইনের ক্রেতা-বান্ধব ফোন তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেবে।
এইচএমডি আগামী ৩ বছরে নকিয়ার নাম পুনোরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কারণ উৎপাদন না থাকায় নকিয়া নামটির উপরে বিগত বছরগুলিতে ধুলার স্তর জমে গেছে। আর এ সময় তা পরিষ্কার করা জরুরী।
অন্যদিকে ফক্সকনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হলো এফআইএইচ মোবাইল লিমিটেড। এই কোম্পানি ২০১৬ এর মাঝামাঝিতে মাইক্রোসফটের কাছ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নকিয়া ফোনের স্বত্ব ফিরে পাবে।
কোম্পানিটি একই সাথে ভিয়েতনামের মাইক্রোসফট মোবাইলের দখলও পেয়ে যাবে। এই কোম্পানিটিতে ৪,৫০০ কর্মী কর্মরত আছেন। এই কর্মীবৃন্দই নকিয়া ব্র্যান্ডের ফোন তৈরি করে থাকেন।
নকিয়া সম্প্রতি এফআইএইচ এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যাতে এই কোম্পানি বিশ্বব্যাপি নকিয়া ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেটের ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা প্রদানের জন্যে একটি যৌথ অবকাঠামো গড়ে তুলবে।
আপনাদেরকে নকিয়া ফোন ও ট্যাবলেটগুলি দেখতে কেমন হবে তা জানতে একটু লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
ঘুরে আসুন গৌর গোবিন্দ দুর্গ
গৌর গোবিন্দ দুর্গ সিলেটের শৈলপ্রান্তে, চৌহাত্তা নামক শহরে অবস্থিত। এটি রাজা গৌর গোবিন্দর প্রতি তার সাহসী সৈনিকদের করা অবাধ্যতার প্রমাণ হিসেবে গড়ে উঠেছে। জায়গাটি প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। যদিও বর্তমানে এই পর্যটন স্থানে শুধুমাত্র অবশিষ্টাংশ দেখা যায় কিন্তু তবুও তা যথেষ্ট মনমুগ্ধকর। দুর্গটি নিঃসন্দেহে পর্যটকদের হাজার হাজার বছর পূর্বে নিয়ে যায়। দুর্গটি এই অঞ্চলের স্মরণীয় প্রাচীন ইতিহাস বহন করে। প্রতি বছর প্রচুর দর্শনার্থী দুর্গটির শৈল্পিক কারুকার্য উপভোগ করার জন্য আসে।
কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানে দুর্গটিতে যাওয়া যায়। কমলাপুর থেকে সিলেটের উদ্দেশে অনেক বাস ছেড়ে যায়। সিলেট পৌঁছানর পর কদমতলি বাস স্ট্যান্ডে যেতে হবে। এখান থেকে সরাসরি বাসে করে দুর্গটিতে পৌঁছানো যায় যা সিলেট সদর থেকে ১-২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আবাসন ও খাদ্যঃ
সিলেট সদরে অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। বেশির ভাগই মাজার রোডে অবস্থিত। কম খরচে যেকোনো স্থানীয় ও বিদেশী খাবার এখানে পাওয়া যায়। হোটেল হলি গেট, হোটেল গোল্ডেন সিটি এগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৬
কি কারনে স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়? এটা কি স্বাভাবিক? প্রতিকার জেনে নিন।
আজকাল প্রায় সবধরনের ফোন এ, সে ফোন Android হোক আর Apple হোক আর উইন্ডোজ ফোন হোক কিংবা সস্তা বা দামী। একটি সমস্যা কিন্তু লেগেই থাকে, তা হলো অত্তাধিক গরম হওয়া। আপনার ফোন এর সাথে যদি এমনই কোনো সমস্যা ঘটে থাকে তবে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্যই। আজ আমি বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করবো, যেমনঃ কেনো স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়? স্মার্টফোন গরম হওয়াটা কি স্বাভাবিক? এবং অত্তাধিক গরম হওয়া থেকে আপনার স্মার্টফোনটিকে কীভাবে রক্ষা করবেন?
স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হওয়ার কারন সমূহঃ
দেখুন যদি গরম হওয়ার কথা বলি তবে বলতেই হয় যে প্রতিটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি বা মেশিন ই গরম হয়। উদাহরণ সরূপ আপনার গাড়ি, কম্পিউটার ইত্যাদি সব কিছুই গরম হওয়া থেকে বিরত নয়।গাড়ি ঠাণ্ডা রাখতে পানি ঢালা হয়, কম্পিউটার ঠাণ্ডা রাখতে ফ্যান ব্যবহার করা হয় তাছাড়া এর ভেতর HeatSheild থাকে। তো আসলে বলতে পারেন স্বাভাবিক ভাবে স্মার্টফোন একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র হওয়ার কারনে এটি গরম হয়। তারপরও আমি আপনাদের সব কিছু খুলে বলবো। তো চলুন জেনে নেয় স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হওয়ার কারন সমূহ।
প্রসেসরঃ স্মার্টফোন গরম হওয়ার জন্য প্রথম যে দায়ী তা হলো প্রসেসর। প্রসেসর আপনার ফোন এর প্রধান অঙ্গ সরূপ। যে আপনার ফোন এর প্রতিটি কাজ করে থাকে। আপনি ফোন ব্যবহার করেন আর নাই বা করেন প্রসেসর কিন্তু সবসময় চলতে থাকে এবং তার কাজ করতে থাকে। আর এই প্রসেসর নির্মাণ করা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ দিয়ে। এবং এর ভেতর অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেকট্রন থাকে। যখন প্রসেসর তার কাজ করে তখন এই ইলেকট্রন গুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করে (সহজ ভাষায়)। এবং এই দৌড়াদৌড়ি করার সময় ইলেকট্রন গুলো নিজেদের ভেতর সংঘর্ষ ঘটায় এবং তাপ উৎপাদন করে। অর্থাৎ আপনার প্রসেসর যত বেশি কাজ করে তাপ ও ততো বেশি উৎপাদন হয়। আপনি যদি কম কাজ করেন, যেমন ধরুন শুধু ফোন এ কথা বলছেন, কিংবা মিউজিক শুনছেন তবে আপনার ফোনটি কম গরম হবে। কিন্তু মনে করেন আপনি গেম খেলছেন এবং একসাথে ইন্টারনেট থেকে কোনো ফাইল ও ডাউনলোড করছেন, তবে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার ফোন এর প্রসেসর কে বেশি কাজ করতে হবে এবং যার ফলে বেশি গরম হবে আপনার স্মার্টফোনটি। আজকাল কার স্মার্টফোন গুলো দিন এর পর দিন চিকন হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রসেসর এর দ্বারা উৎপন্ন তাপ আপনার ফোনটি চিকন হওয়ার কারনে বের হতে পারে না। এবং লক্ষ করলে দেখা যাবে যে আপনার ফোন এর প্রসেসরটি ফোন বডির সাথেই লেগে থাকে, যার ফলে খুব তারাতারি এবং অত্যাধিক গরম অনুভূত হয়।
অত্যাধিক লোডঃ আমি আগেই বলেছি অত্যাধিক লোড ফেললে আপনার ফোনটি দ্রুত এবং বেশি গরম হবে। স্বাভাবিক কাজ যেমন ফোন এ কথা বলা, এসএমএস সেন্ড করা বা গান শোনার মত ছোট কাজ এ কম গরম হবে আপনার ফোনটি। কিন্তু আপনি যখন অনেক গুলো কাজ এক সাথে করবেন বা কোনো বড় কাজ করবেন তখন আপনার ফোনটি অত্যাধিক লোড এর সম্মক্ষিন হবে এবং স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হবে।
ব্যাটারিঃ স্মার্টফোন গুলো দিনদিন চিকন হয়েই চলছে। কিন্তু ব্যাটারি প্রযুক্তিতে তেমন একটা বিশেষ উন্নতি আনা হচ্ছে না। তারপর ফোনটি অনেক চিকন হওয়ার কারনে যন্ত্রপাতি গুলোর একে অপরের মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব থাকে না। ব্যাটারি চার্জ বা ডিসচার্জ হওয়ার সময় কম বেশি গরম হয়েই থাকে। আর যন্ত্রপাতি গুলোর একে অপরের মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব না থাকার ফলে এই ব্যাটারির গরম সব দিকে ছড়িয়ে পরে এবং আপনার স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়ে পরে।
পরিবেষ্টিত তাপমাত্রাঃ স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম, হওয়ার আরেকটি বড় কারন কিন্তু পরিবেষ্টিত তাপমাত্রা হতে পারে। সাধারন ভাবে গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ৩৫-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে যায়। এই পরিবেশে আপনি ঘরে বসে থাকলেও আপনার আসেপাশের তাপমান থাকে প্রায় ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এই তাপমান এর ভেতর আপনি স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এটি আরো তাড়াতাড়ি গরম হয়ে পরবে।
দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগনালঃ মনে করুন আপনি এমন এক জায়গায় আছেন, যেখানে নেটওয়ার্ক সিগনাল খুব দুর্বল। অথবা আপনার ওয়াইফাই সিগনাল অনেক কষ্টে আপনার স্মার্টফোন অবধি আসছে। এই অবস্থায় আপনার স্মার্টফোন এ বেশি চার্জ খরচ হয়। দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগনাল পাওয়ার জন্য আপনার ফোনটি অ্যান্টেনাতে বেশি পাওয়ার প্রয়োগ করে, যাতে ফোনটি ভালো সিগনাল ধরতে পারে। এতে স্মার্টফোনটির প্রসেসরকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। এবং স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়ে পরে।
কতটা গরম হওয়া স্বাভাবিক এবং কতটা গরম হওয়া অস্বাভাবিকঃ
এখন চলুন কথা বলি স্মার্টফোন স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক গরম হওয়া নিয়ে। স্বাভাবিক অবস্থায় কাজ করতে করতে আপনার স্মার্টফোনটি ৩৫-৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম হতে পারে। আর বিশ্বাস করুন এটা শুধু আপনার ফোন এর ক্ষেত্রে না, বরং সবারই গরম হয়। আপনার ফোনটি কম দামী বলেই যে বেশি গরম হচ্ছে, তা কিন্তু মতেও ঠিক নয়। স্যামসাঙ বলুন আর অ্যাপেল, সব ফোনই কিন্তু গরম হয়।
তবে হাঁ, আপনি যদি লক্ষ্য করে দেখেন যে আপনার ফোনটি সবসময়ই ৩৫-৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম থাকছে। এমন কি যখন আপনার ফোনটি স্ট্যান্ড-বাই মোড এ থাকে তখনও, তবে আপনার ফোন এ সমস্যা আছে।
স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হওয়াতে কি কি অসুবিধা হতে পারেঃ
কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়াঃ স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হওয়াতে আপনার ফোন এর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। দেখুন স্মার্টফোন এর প্রসেসরকে এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে এটি বেশি গরম হয়ে পরলে কাজ করা কমিয়ে দেয়, যাতে এটি ঠাণ্ডা হতে পারে। আর প্রসেসর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা কমিয়ে ফেলার জন্য আপনার স্মার্টফোন এর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
অত্যাধিক গরম হওয়া থেকে স্মার্টফোনকে কীভাবে রক্ষা করবেনঃ
স্মার্টফোনে বেশি কাজ করা যাবে না বা বেশি গেম খেলা যাবে না, আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। অত্যাধিক গরম হওয়া থেকে স্মার্টফোনকে বাচাতে চাইলে আপনার ফোন এর সফটওয়্যার গুলো কে আপডেট রাখুন। অনেক সময় ফোন এর সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সমকক্ষতা রাখতে বার্থ হয়। সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। নিয়মিত অনুসন্ধান করে দেখুন যে কোন কোন অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ড এ বেশি জায়গা নিচ্ছে। সে অ্যাপস গুলো সনাক্ত করে অস্থায়ী ভাবে বন্ধ করে রাখুন।
উপসংহারঃ
আশাকরি আজকের এই পোস্টটি আপনারা খুব উপভোগ করেছেন। আপনাদের কাছে যদি স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হওয়ার আরো কোনো কারন থাকে কিংবা কীভাবে অত্যাধিক গরম হওয়া থেকে স্মার্টফোনকে কীভাবে রক্ষ্যা করা যায় যে বিষয়ে আরো ধারণা থাকে তবে কমেন্ট করে আমাকে জানাতে পারেন।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)






